রাজনীতিতে চাই নৈতিক উত্তরণ – সম্পাদকীয়।

স্বল্প সময়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন সারা বিশ্ব এক বিস্ময়কর মডেল। অবকাঠামো থেকে জিডিপি পর্যন্ত সবখানে উন্নয়নের স্মারকচিহ্ন। একদশকে দেশে যা উন্নয়ন হয়েছে, বিগত দিনে তা ছিল অলীক স্বপ্ন। বিরোধীপক্ষকে নীরবে একধরনের কৌশলী চাপে রেখে এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা সরবে এগিয়েছে। কিন্তু জনগণের মাঝে এই উন্নয়নের সুনাম সরকারেরই আরেকটা অংশ বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করে যাচ্ছিল। সরকারপ্রধান ওই সব অপশক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। নৈতিকতার প্রশ্নে অবস্থান পরিবর্তন করে দলীয় অশুভশক্তির বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ হয়েছে।

রাজধানীর নামকরা অভিজাত ক্লাবগুলো মাদক আর জুয়ার আখড়ায় পরিণত হয়েছিল অতি গোপনে। একটা শ্রেণির কাছে বিষয়টি পরিষ্কার হলেও সাধারণ মানুষের কাছে ছিল অজানা। ক্ষমতাসীনদের অনেক হোমরাচোমরা এসব ক্লাবের নিয়ন্ত্রক হলেও এতদিন তা যেন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল। স্বয়ং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাহারায় ক্লাবগুলোর ভেতরে কোটি কোটি টাকার জুয়া ও মাদকসেবন সমান তালে চলত। আর এসবের ক্রীড়নক ছিলেন ক্ষমতাধরা ব্যক্তিরা। শুধু তাই নয়, ওই ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা নিজেদের রাজনৈতিক এলাকায় নির্মাণ প্রতিষ্ঠান, মার্কেট ও বাজারগুলো থেকে চাঁদাবাজি, জমিজমা দখলের বিচার, কোনো অভিযোগে ধরে এনে মানুষকে নির্যাতন সবই তারা বিচারের নামে করত। ক্ষমতার দম্ভে এমন কোনো অন্যায় নেই যে, যা তারা করত না। ক্ষমতার শীর্ষ থাকা কোনো কোনো ব্যক্তিও নাকি এদের সহায়ক হিসেবে প্রেরণা জুগিয়েছেন। একদিকে উন্নয়ন অন্য দিকে অনাচার জনগণের কাছে বিপরীত এই দুই বিষয়ের সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। কয়েক দিনে সরকারের ওপর মহলের কঠোর পদক্ষেপে কয়েকজন গ্রেফতার হওয়ায় সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।

দেশে একসময় মাদকের ভয়াবহতা রুদ্র রূপ ধারণ করেছিল। জনশ্রুতি আছে, সরকারদলীয় কেউ কেউ সংগোপনে প্রধান মাদক ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে গিয়েছিলেন। অনেকে রাতারাতি কোটিপতিও বনে গেছেন। মিয়ানমার থেকে আসা এই মাদক এতই প্রচলিত হয়ে গিয়েছিল যে পথেঘাটে আনাচেকানাচে সর্বত্রই এই মাদক পাওয়া যেত। মাদক বহন লাভজনক ছিল বিধায়, গোটা দেশটা যেন ইয়াবার জালে পরিণত হয়ে গিয়েছিল। উম্মত্ত মাদক ব্যবসায়ীরা নিজেদের স্বার্থ নির্বিঘ্নে করতে প্রয়োজনে খুনখারাবি করতেও দ্বিধা করত না। দেশের পাড়া-মহল্লায় মাদকসেবী ও খুনিদের অপতৎপরতা বেড়ে গিয়েছিল। সরকারের একটি কঠিন সিদ্ধান্ত মাদক কারবারিদের যাবতীয় অপতৎপরতা ¤øান করে দিয়েছে।

মালয়েশিয়ার স্বপ্নপুরুষ মোহাম্মদ মাহাথির তার বলিষ্ঠতা দিয়ে মালয়েশিয়াকে আজকের পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। তিনিও দেশের অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর হয়েছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে সব দুষ্কৃতকারীকে দমন করেছিলেন। উন্নয়নের সব বাধা দূর করতে তিনি প্রয়োজনীয় সব ক্ষেত্রে তিনি কঠোর হয়েছেন। তার কঠোরতার পথ ধরে ওই দেশ আজ আধুনিক মালয়েশিয়ায় পরিণত হয়েছে।

নিজ দলীয় লোকদের ভেতর থেকে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনার জন্য সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপকে আমরা সাধুবাদ জানাই। সামাজিক অপরাধ যারাই করুক না কেন, সমাজের চোখে সবাইকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা উচিত। সরকারের এই সাহসী পদক্ষেপ অন্তত তা-ই প্রমাণ করে। দেশকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাতারে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হলে সমাজের সব ধরনের অপশক্তিকে প্রতিরোধ করতে হবে। চাঁদাবাজ, অস্ত্রবাজ, মাদকসেবী, জুয়াড়ি এক কথায় রাষ্ট্র ও সমাজবিরোধী অপশক্তিকে সমূলে বিন্যাস করতে হবে। কেবল তাহলেই উন্নয়নের সুফল মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁচ্ছে দেয়া সম্ভব।

আলহাজ্ব আকবর কবীর
সম্পাদক
সুন্দরবন নিউজ ২৪. কম